স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল—ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ইংল্যান্ড। চারটি দলই অতীতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছে। ফলে এবারের ফাইনাল কোন দুই দলের মধ্যে হবে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
সেমিফাইনালের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে বিশ্বকাপের ফাইনালে কোন ঐতিহাসিক লড়াই দেখা যাবে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি হতে পারে, আবার ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালও ফিরতে পারে নতুন মঞ্চে। পাশাপাশি সম্ভাবনা রয়েছে ইতিহাসখ্যাত ইংল্যান্ড-ফ্রান্স দ্বৈরথ কিংবা বহু প্রতীক্ষিত স্পেন-আর্জেন্টিনা মুখোমুখিরও।
ফ্রান্স বনাম আর্জেন্টিনা: কাতার ফাইনালের পুনরাবৃত্তি?
সেমিফাইনালে জয় পেলে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে টাইব্রেকারে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে শিরোপা এনে দিতে পারেনি।
এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল ফ্রান্স। ফলে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে এই দুই দলের লড়াই হলে সেটি নিঃসন্দেহে অন্যতম আকর্ষণীয় ফাইনালে পরিণত হতে পারে।
স্পেন বনাম ইংল্যান্ড: ইউরো ফাইনালের নতুন অধ্যায়
ফাইনালে স্পেন ও ইংল্যান্ড উঠলে সেটি হবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সাম্প্রতিক ফাইনালের পুনরাবৃত্তি। সেই ম্যাচে স্পেন ২-১ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে দুই দল খুব বেশি মুখোমুখি হয়নি। তাই দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বমঞ্চে সম্ভাব্য এই লড়াই নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। একদিকে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের নেতৃত্ব, অন্যদিকে লামিনে ইয়ামালদের দুর্দান্ত ছন্দ—ফাইনালটি হতে পারে সমান লড়াইয়ের।
স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা: বহু প্রতীক্ষিত ফাইনালিসিমার বিকল্প
স্পেন ও আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে সেটি হবে দুই স্প্যানিশ ভাষাভাষী ফুটবল পরাশক্তির লড়াই। কোপা আমেরিকা ও ইউরো জয়ী দুই দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ফিনালিসিমা শেষ পর্যন্ত আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্বকাপের ফাইনালে এই দুই দল মুখোমুখি হলে অভিজ্ঞ লিওনেল মেসি এবং তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের লড়াই বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রজন্মের সংঘর্ষ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হতে পারে অনন্য এক উপলক্ষ।
ফ্রান্স বনাম ইংল্যান্ড: ইতিহাসের দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই
ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য ফাইনাল কেবল ফুটবল নয়, ইতিহাসের কারণেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে। শতবর্ষব্যাপী ঐতিহাসিক সংঘাতের জন্য পরিচিত এই দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন ফুটবল মাঠেও সমান আলোচিত।
বিশ্বকাপে অতীতে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। সর্বশেষ ২০২২ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। এবার ফাইনালে দেখা হলে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহামের ব্যক্তিগত লড়াইও বাড়তি উত্তেজনা যোগ করবে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল শেষে কোন দুই দল ফাইনালে জায়গা করে নেবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তবে যে জুটিই ফাইনালে উঠুক, ফুটবলপ্রেমীরা যে আরেকটি স্মরণীয় ম্যাচের অপেক্ষায় আছেন, তা বলাই যায়।
Mahmudul Hasan 








