Dhaka 3:31 pm, Wednesday, 4 November 2026
News Title :
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর যুবদল নেতা বহিষ্কার ফ্রান্সকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন বিএনপি ও জামায়াত একদল, দাবি জি এম কাদেরের আ. লীগের বিচার শুরু, সীমান্তে ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে: মাহদী আমিন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয় চান ট্রাম্পের প্রতিনিধি ইতিহাসের সবচেয়ে দামী সেমিফাইনাল আজ সেমিফাইনালে উঠেছে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল। সম্ভাব্য চার দ্বৈরথ ঘিরে ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনা

আ. লীগের বিচার শুরু, সীমান্তে ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:07:13 am, Wednesday, 15 July 2026
  • 108 Time View

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা দেশে প্রবেশ করলেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার সম্পর্কে’ আলোচনায় বিষয়গুলো উঠে আসে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এ বিষয়ে আলোচনা প্রস্তাব আনেন। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এবং বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন সংসদ সদস্য অংশ নেন।

আলোচনায় বিরোধী দলের সদস্যরা জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন, জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথমদিকে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের দলীয় বিচার নিশ্চিত করার জন্য আইন করেনি। পরে আন্দোলনের মাধ্যমে সেই দাবি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের দলীয় বিচারের দাবি প্রথম তিনিই তুলেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে আহত জুলাই যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকার অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়নি এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, তা শুধু সরকারের একার সিদ্ধান্ত নয়; জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এ ধরনের নীতি নির্ধারণ করা উচিত।

তিনি আরও জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার নিয়মিত কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত তিনজনকেও দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জুলাই গণ–অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট ১৬টি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে, চারটি মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং তিনটি মামলার রায় ইতোমধ্যে হয়েছে।

তিনি জানান, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের বাইরে থেকে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিচ্ছেন, বাংলাদেশের আইনে তাঁদের আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই। দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামি বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

বিচারে গড়িমসি মেনে নেওয়া হবে না

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পন্ন করতে হবে। বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের গড়িমসি জনগণ মেনে নেবে না।

তিনি সীমান্ত পরিস্থিতি এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়েও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আওয়ামী লীগের বিচার চাইল বিরোধী দল

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, দলটি একাধিকবার গণহত্যা, গণতন্ত্র ধ্বংস এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত করার সঙ্গে জড়িত।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর এবং ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা বাড়াতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

অন্যদিকে, গণ অধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে ফ্যাসিবাদের বিচার সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিচার, পররাষ্ট্রনীতি এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নীতিগত সমঝোতার প্রয়োজন রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আ. লীগের বিচার শুরু, সীমান্তে ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

Update Time : 12:07:13 am, Wednesday, 15 July 2026

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা দেশে প্রবেশ করলেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার সম্পর্কে’ আলোচনায় বিষয়গুলো উঠে আসে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এ বিষয়ে আলোচনা প্রস্তাব আনেন। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এবং বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন সংসদ সদস্য অংশ নেন।

আলোচনায় বিরোধী দলের সদস্যরা জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন, জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথমদিকে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের দলীয় বিচার নিশ্চিত করার জন্য আইন করেনি। পরে আন্দোলনের মাধ্যমে সেই দাবি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের দলীয় বিচারের দাবি প্রথম তিনিই তুলেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে আহত জুলাই যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকার অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়নি এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, তা শুধু সরকারের একার সিদ্ধান্ত নয়; জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এ ধরনের নীতি নির্ধারণ করা উচিত।

তিনি আরও জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার নিয়মিত কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত তিনজনকেও দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জুলাই গণ–অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট ১৬টি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে, চারটি মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং তিনটি মামলার রায় ইতোমধ্যে হয়েছে।

তিনি জানান, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের বাইরে থেকে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিচ্ছেন, বাংলাদেশের আইনে তাঁদের আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই। দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামি বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

বিচারে গড়িমসি মেনে নেওয়া হবে না

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পন্ন করতে হবে। বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের গড়িমসি জনগণ মেনে নেবে না।

তিনি সীমান্ত পরিস্থিতি এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়েও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আওয়ামী লীগের বিচার চাইল বিরোধী দল

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, দলটি একাধিকবার গণহত্যা, গণতন্ত্র ধ্বংস এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত করার সঙ্গে জড়িত।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর এবং ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা বাড়াতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

অন্যদিকে, গণ অধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে ফ্যাসিবাদের বিচার সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিচার, পররাষ্ট্রনীতি এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নীতিগত সমঝোতার প্রয়োজন রয়েছে।