স্পোর্টস ডেস্ক | ঢাকা নেশন
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ থেকে চার পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে শনিবার পানামার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে ইংল্যান্ড স্পষ্ট ফেভারিট হলেও মাঠের বাস্তবতা বলছে, পানামাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
সেন্ট্রাল আমেরিকার দলটি এখন পর্যন্ত জয় পায়নি। তবে ঘানা ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্স স্কোরলাইনের চেয়ে অনেক বেশি ইতিবাচক ছিল। ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। তবে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার আদালবার্তো কারাসকিয়ার ইনজুরির কারণে আক্রমণে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি পানামা।
ম্যাচভেদে বদলে যায় পানামার কৌশল
পানামার প্রধান শক্তি তাদের কৌশলগত নমনীয়তা। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা বারবার ফরমেশন পরিবর্তন করে।
প্রতিপক্ষ গোলকিক থেকে খেলা শুরু করলে পানামা সাধারণত ৪-৪-২ ফরমেশনে আক্রমণাত্মক প্রেসিং করে। কিন্তু প্রতিপক্ষ বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মাঝমাঠে উঠে এলে তারা দ্রুত ৫-৩-২ ফরমেশনে নেমে আসে এবং মাঝমাঠকে সংকুচিত করে খেলার চেষ্টা করে।
আবার প্রতিপক্ষের চাপ বেড়ে গেলে তারা আরও রক্ষণাত্মক হয়ে ৫-৪-১ ফরমেশন গ্রহণ করে, যেখানে ডিফেন্সিভ লাইনও অনেক নিচে নেমে আসে।
ইংল্যান্ড কীভাবে সুযোগ তৈরি করতে পারে?
ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলের দল এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে যারা সামনে উঠে প্রেসিং করে। কারণ এতে ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝখানে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, যা দ্রুত আক্রমণে কাজে লাগাতে পারে থ্রি লায়ন্স।
বিশ্লেষকদের মতে, পানামা যদি আগের ম্যাচগুলোর মতোই উচ্চ প্রেসিং চালিয়ে যায়, তাহলে ইংল্যান্ড দ্রুত পাস ও কাউন্টার অ্যাটাকের মাধ্যমে সেই ফাঁকা জায়গা কাজে লাগাতে পারে।
উইং ব্যবহারই হতে পারে বড় অস্ত্র
পানামার ৫-৪-১ ফরমেশনে মাঝমাঠে মাত্র চারজন খেলোয়াড় থাকায় মাঠের দুই পাশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ কারণে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত বল স্থানান্তর করলে ইংল্যান্ডের ফুল-ব্যাক ও উইঙ্গাররা সহজেই আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ক্রোয়েশিয়া তাদের একমাত্র গোলটি ঠিক এভাবেই আদায় করেছিল। একই কৌশল ইংল্যান্ডও অনুসরণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া উইং-ব্যাক ও সেন্টার-ব্যাকের মাঝখানে যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, সেটিও ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ডদের জন্য কার্যকর হতে পারে।
হ্যারি কেইনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
ঘানার বিপক্ষে হ্যারি কেইনকে ব্যক্তিগতভাবে মার্কিং করা হয়েছিল, যাতে তিনি খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন।
পানামা যদি একই কৌশল অনুসরণ না করে, তাহলে কেইন নিচে নেমে বল সংগ্রহ করে ডিফেন্স লাইনের পেছনে নিখুঁত পাস বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। পানামার ডিফেন্সিভ লাইন তুলনামূলক উঁচুতে থাকায় এই কৌশল ইংল্যান্ডের জন্য কার্যকর হতে পারে।
পাল্টা আক্রমণেও বিপজ্জনক পানামা
বল দখলে থাকলে পানামা ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের প্রেসিং ভাঙতে পারে। বিশেষ করে মিডফিল্ডার ক্রিস্তিয়ান মার্টিনেজ এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
তবে ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় শক্তি হচ্ছে বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা বা কাউন্টার-প্রেসিং। ফলে পানামাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্রমণ গড়তে হবে, না হলে তারা মাঝমাঠেই বল হারাতে পারে।
ম্যাচের বড় প্রশ্ন
পানামার সামনে নকআউট পর্বে ওঠার আর কোনো সুযোগ নেই। ফলে কোচ টমাস ক্রিশ্চিয়ানসেন মূল একাদশে পরিবর্তন আনবেন কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।
তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে পানামা যে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করবে, তা বলাই যায়।
অন্যদিকে, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য থাকবে পূর্ণ তিন পয়েন্ট। কৌশলগত লড়াইয়ে তাই ম্যাচটি হতে পারে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথ।
Reporter Name 









