স্পোর্টস ডেস্ক: চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির দুঃসময় যেন কাটছেই না। গ্রুপ পর্বে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দুর্দান্ত সূচনা করলেও শেষ ৩২-এর ম্যাচে টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে জার্মানি। এই পরাজয়ের পর দলটির প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগলসমানের ভবিষ্যৎ নিয়েও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের লড়াই শেষে ফল নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপের পরীক্ষায় জয় তুলে নেয় প্যারাগুয়ে। ম্যাচ শেষে জার্মান খেলোয়াড়দের হতাশায় মাঠেই ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে নাগলসমান স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে জার্মানি আর বিশ্ব ফুটবলের প্রথম সারির দল নয়।
তিনি বলেন, “আপনি যদি প্রথম পর্বের পরেই বিদায় নেন, তবে তা জার্মান ফুটবলের জন্য যথেষ্ট নয়। এটি টানা তৃতীয়বারের মতো বড় টুর্নামেন্টে ব্যর্থতা। তাই আমরা আর প্রথম সারির দলগুলোর অংশ নই। আমি অত্যন্ত হতাশ।”
তবে অতিরিক্ত সময়ে জোনাথান টাহর হেড থেকে করা গোলটি ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জার্মান কোচ।
তার ভাষায়, “অতিরিক্ত সময়ে জোনাথান টাহর হেডার বাতিল করার সিদ্ধান্তটি ছিল একেবারেই একটি রসিকতা।”
তবুও নাগলসমান মনে করেন, ভিএআরের সিদ্ধান্তকে অজুহাত বানানোর সুযোগ নেই। কাগজে-কলমে ফেবারিট হয়েও ম্যাচ জিততে না পারা জার্মানির জন্য বড় ব্যর্থতা বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।
অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে হেরে কোনোমতে নকআউটে ওঠা প্যারাগুয়ে জার্মানির বিপক্ষে অসাধারণ লড়াই করে ইতিহাস গড়েছে। টাইব্রেকারে জয়ের পর উল্লাসে ফেটে পড়েন তাদের সমর্থকেরা। পরবর্তী রাউন্ডে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এই জয় প্যারাগুয়ের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জার্মানির সাবেক তারকা য়ুর্গেন ক্লিন্সম্যান এই হারকে “বিব্রতকর” বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে নাগলসমানকে বরখাস্তের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
তবে পদত্যাগের কোনো ইচ্ছা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন নাগলসমান।
তিনি বলেন, “জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি) যদি আমাকে দায়িত্বে রাখতে চায়, তাহলে আমি কাজ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। আমি এমন মানুষ নই, যে কঠিন পরিস্থিতি দেখে পালিয়ে যাব।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সম্ভবত আমাদের বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। ভবিষ্যতের জন্য কিছু সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।”
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে বড় টুর্নামেন্টে হতাশ করছে জার্মানি। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবারও নকআউটের শুরুতেই ছিটকে গেল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এখন জার্মান ফুটবলের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কবে ভাঙবে এই ব্যর্থতার বৃত্ত?
Reporter Name 









