Dhaka 5:13 pm, Wednesday, 4 November 2026
News Title :
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর যুবদল নেতা বহিষ্কার ফ্রান্সকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন বিএনপি ও জামায়াত একদল, দাবি জি এম কাদেরের আ. লীগের বিচার শুরু, সীমান্তে ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে: মাহদী আমিন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয় চান ট্রাম্পের প্রতিনিধি ইতিহাসের সবচেয়ে দামী সেমিফাইনাল আজ সেমিফাইনালে উঠেছে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল। সম্ভাব্য চার দ্বৈরথ ঘিরে ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনা

এইচপিভি টিকাদান ও স্ক্রিনিং সম্প্রসারণের আহ্বান স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:43:47 am, Tuesday, 30 June 2026
  • 16 Time View

দেশে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি)-জনিত রোগ প্রতিরোধে টিকাদান

হেলথ ডেস্ক: দেশে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি)-জনিত রোগ প্রতিরোধে টিকাদান, জনসচেতনতা এবং স্ক্রিনিং কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, কার্যকর টিকাদান, সময়মতো পরীক্ষা এবং জনসচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে জরায়ুমুখ ক্যানসার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা, এমনকি নির্মূল করাও সম্ভব।

সোমবার রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ইন্টারন্যাশনাল প্যাপিলোমাভাইরাস সোসাইটি (আইপিভিএস) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের লিড অধ্যাপক আশরাফুন্নেছা বলেন, এইচপিভি বিশ্বের অন্যতম সাধারণ যৌনবাহিত সংক্রমণ। এ ভাইরাসের ২০০টিরও বেশি ধরন রয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী। বিশেষ করে এইচপিভি-১৬ ও এইচপিভি-১৮ জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটনার জন্য দায়ী। এছাড়া পায়ুপথ, মুখগহ্বর, যোনিপথ ও পুরুষাঙ্গের ক্যানসারের সঙ্গেও এই ভাইরাসের সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে সাধারণ নারীদের মধ্যে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এইচপিভির সংক্রমণের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। উপকূলীয় অঞ্চলে এ হার ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং শহর ও গ্রামের নারীদের মধ্যে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সদস্য অধ্যাপক কামরুন নাহার বলেন, তাঁদের লক্ষ্য এইচপিভি-সম্পর্কিত রোগমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে টিকাদান, স্ক্রিনিং, গবেষণা, তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে কাজ করা হবে।

অনুষ্ঠানে অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সভাপতি অধ্যাপক সাবেরা খাতুন বলেন, জরায়ুমুখ ক্যানসারের সঙ্গে এইচপিভির সম্পর্ক আবিষ্কারের পর এ ভাইরাস প্রতিরোধে টিকার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

আইসিডিডিআর,বি-এর জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ফেরদৌসী কাদরী জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৯ হাজার নারী জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং সময়মতো চিকিৎসার অভাবে তাঁদের প্রায় অর্ধেকের মৃত্যু হয়। তিনি ১১ থেকে ২১ বছর বয়সী কিশোরী ও তরুণীদের পাশাপাশি ছেলেদেরও এইচপিভি টিকার আওতায় আনার আহ্বান জানান।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক কাজী আহম্মেদ জাকী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘৯০-৭০-৯০’ কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে জরায়ুমুখ ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উন্নয়ন হলেও সেবার মান আরও বাড়াতে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বৃদ্ধি, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশে এইচপিভি-জনিত ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এইচপিভি টিকাদান ও স্ক্রিনিং সম্প্রসারণের আহ্বান স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের

Update Time : 10:43:47 am, Tuesday, 30 June 2026

দেশে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি)-জনিত রোগ প্রতিরোধে টিকাদান

হেলথ ডেস্ক: দেশে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি)-জনিত রোগ প্রতিরোধে টিকাদান, জনসচেতনতা এবং স্ক্রিনিং কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, কার্যকর টিকাদান, সময়মতো পরীক্ষা এবং জনসচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে জরায়ুমুখ ক্যানসার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা, এমনকি নির্মূল করাও সম্ভব।

সোমবার রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ইন্টারন্যাশনাল প্যাপিলোমাভাইরাস সোসাইটি (আইপিভিএস) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের লিড অধ্যাপক আশরাফুন্নেছা বলেন, এইচপিভি বিশ্বের অন্যতম সাধারণ যৌনবাহিত সংক্রমণ। এ ভাইরাসের ২০০টিরও বেশি ধরন রয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী। বিশেষ করে এইচপিভি-১৬ ও এইচপিভি-১৮ জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটনার জন্য দায়ী। এছাড়া পায়ুপথ, মুখগহ্বর, যোনিপথ ও পুরুষাঙ্গের ক্যানসারের সঙ্গেও এই ভাইরাসের সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে সাধারণ নারীদের মধ্যে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এইচপিভির সংক্রমণের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। উপকূলীয় অঞ্চলে এ হার ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং শহর ও গ্রামের নারীদের মধ্যে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সদস্য অধ্যাপক কামরুন নাহার বলেন, তাঁদের লক্ষ্য এইচপিভি-সম্পর্কিত রোগমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে টিকাদান, স্ক্রিনিং, গবেষণা, তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে কাজ করা হবে।

অনুষ্ঠানে অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সভাপতি অধ্যাপক সাবেরা খাতুন বলেন, জরায়ুমুখ ক্যানসারের সঙ্গে এইচপিভির সম্পর্ক আবিষ্কারের পর এ ভাইরাস প্রতিরোধে টিকার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

আইসিডিডিআর,বি-এর জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ফেরদৌসী কাদরী জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৯ হাজার নারী জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং সময়মতো চিকিৎসার অভাবে তাঁদের প্রায় অর্ধেকের মৃত্যু হয়। তিনি ১১ থেকে ২১ বছর বয়সী কিশোরী ও তরুণীদের পাশাপাশি ছেলেদেরও এইচপিভি টিকার আওতায় আনার আহ্বান জানান।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক কাজী আহম্মেদ জাকী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘৯০-৭০-৯০’ কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে জরায়ুমুখ ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উন্নয়ন হলেও সেবার মান আরও বাড়াতে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বৃদ্ধি, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশে এইচপিভি-জনিত ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।