স্পোর্টস ডেস্ক | Dhaka Nation
বিশ্বকাপের অন্যতম নাটকীয় ম্যাচগুলোর একটি উপহার দিল বেলজিয়াম ও সেনেগাল। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ফিরে আসে বেলজিয়াম। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে অতিরিক্ত সময়ের এক বিতর্কিত পেনাল্টি, যেখান থেকে জয়সূচক গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ইউরোপের দলটি।
ঘটনাটি ঘটে অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে। বক্সের ভেতরে বেলজিয়ামের আক্রমণ থামাতে স্লাইডিং ট্যাকল করেন সেনেগালের মিডফিল্ডার লামিন কামারা। প্রথমে রেফারি সাইদ মার্তিনেজ খেলা চালিয়ে যেতে দিলেও বল মাঠের বাইরে যাওয়ার পর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) তাঁকে ঘটনাটি পুনরায় দেখতে পরামর্শ দেন।
মাঠের পাশের মনিটরে কয়েকটি রিপ্লে দেখার পর রেফারি নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টি ঘোষণা করেন। সেই সময় থেকেই সেনেগালের খেলোয়াড়েরা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন। তাঁদের দাবি ছিল, কামারার ট্যাকলটি স্বাভাবিক ডিফেন্সিভ চ্যালেঞ্জ এবং সেটি পেনাল্টি হওয়ার মতো নয়।
দীর্ঘ বিরতির পর পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন ইউরি টিলেমান্স। তাঁর নেওয়া শট জালে জড়াতেই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় বেলজিয়ামের। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তারা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয়, আর টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় সেনেগালকে।
ক্ষুব্ধ সেনেগাল শিবির
ম্যাচ শেষে সেনেগালের প্রধান কোচ পাপে থিয়াও বলেন, তাঁদের দৃষ্টিতে ঘটনাটি কোনোভাবেই পেনাল্টি ছিল না। তাঁর মতে, এমন একটি সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিয়েছে।
থিয়াও আরও বলেন, ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ পুরোপুরি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে চাপ সামলাতে না পারায় জয় হাতছাড়া হয়েছে।
সাবেক তারকাদেরও প্রশ্ন
বিতর্কিত এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরাও।
ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিলের মতে, ঘটনাটি পেনাল্টি দেওয়ার মতো ছিল না। অন্যদিকে রয় কিন বলেন, সিদ্ধান্তটি অতিরিক্ত কঠোর ছিল এবং ভিএআর পর্যালোচনায় রেফারির দীর্ঘ সময় নেওয়া তাঁর অনিশ্চয়তারই প্রমাণ।
কেন পেনাল্টি দেওয়া হলো?
ভিএআর পর্যালোচনায় ওপর থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, লামিন কামারার স্লাইডিং চ্যালেঞ্জে ইউরি টিলেমান্সের পায়ে সংস্পর্শ হয়। ম্যাচ কর্মকর্তাদের মতে, ওই সংস্পর্শই বেলজিয়ান মিডফিল্ডারের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং তিনি বক্সের ভেতরে পড়ে যান। ফুটবলের বর্তমান আইন অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের পায়ে এমন অবৈধ সংস্পর্শে আক্রমণকারী খেলোয়াড়ের ভারসাম্য নষ্ট হলে সেটি ফাউল হিসেবে গণ্য হতে পারে। সেই ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই ভিএআরের সুপারিশে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন।
তবে ফুটবলবিশ্বে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি। অনেকের মতে, এটি ছিল অত্যন্ত সামান্য সংস্পর্শ; আবার অন্যদের মতে, আইন অনুযায়ী রেফারির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। ফলে ম্যাচ শেষ হলেও “পেনাল্টি ছিল কি ছিল না”—এই প্রশ্নই এখন ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার প্রধান বিষয়।
Mahmudul Hasan 









