Dhaka 4:13 pm, Wednesday, 4 November 2026
News Title :
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর যুবদল নেতা বহিষ্কার ফ্রান্সকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন বিএনপি ও জামায়াত একদল, দাবি জি এম কাদেরের আ. লীগের বিচার শুরু, সীমান্তে ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে: মাহদী আমিন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয় চান ট্রাম্পের প্রতিনিধি ইতিহাসের সবচেয়ে দামী সেমিফাইনাল আজ সেমিফাইনালে উঠেছে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল। সম্ভাব্য চার দ্বৈরথ ঘিরে ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনা
আপিল বিভাগের রায়ে ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ খুলল

৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বাধা দূর

  • Urmi Tabassum
  • Update Time : 02:01:39 pm, Thursday, 2 July 2026
  • 70 Time View

স্টাফ রিপোর্টার | Dhaka Nation

দেশজুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে যে আইনি জটিলতা ছিল, তা অবশেষে কাটতে যাচ্ছে। আপিল বিভাগের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালার একটি অংশকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া আগের রায় কার্যকর থাকছে না।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জ্যেষ্ঠতার তালিকায় অগ্রাধিকার পাবেন, আর জাতীয়করণ হওয়া বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষকদের অবস্থান থাকবে পরবর্তী ধাপে।

তিনি বলেন, এই মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। অনেক প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও স্থায়ী নিয়োগ, বদলি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের ফলে সরকার এখন শূন্য পদগুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবে। এতে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মামলার পটভূমি

২০১৩ সালে অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরির শর্ত নির্ধারণে একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। এর আগে জাতীয়করণের জন্য ২৬ হাজারের বেশি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচন করে সরকার সেগুলো পর্যায়ক্রমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনে।

পরে ২০১৭ সালে ওই বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত একটি বিধান চ্যালেঞ্জ করে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৯ সালে হাইকোর্ট ওই বিধানের একটি অংশকে সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘোষণা করেন।

হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের অনুমতি চাইলে ২০২২ সালে আপিল বিভাগ আবেদন গ্রহণ করেন এবং হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিক আপিল দায়ের করে। একই বিষয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও পৃথক আবেদন করা হয়।

সব পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল গ্রহণ করে চূড়ান্ত রায় দেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ আবারও উন্মুক্ত হলো।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপিল বিভাগের রায়ে ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ খুলল

৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বাধা দূর

Update Time : 02:01:39 pm, Thursday, 2 July 2026

স্টাফ রিপোর্টার | Dhaka Nation

দেশজুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে যে আইনি জটিলতা ছিল, তা অবশেষে কাটতে যাচ্ছে। আপিল বিভাগের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালার একটি অংশকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া আগের রায় কার্যকর থাকছে না।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জ্যেষ্ঠতার তালিকায় অগ্রাধিকার পাবেন, আর জাতীয়করণ হওয়া বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষকদের অবস্থান থাকবে পরবর্তী ধাপে।

তিনি বলেন, এই মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। অনেক প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও স্থায়ী নিয়োগ, বদলি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের ফলে সরকার এখন শূন্য পদগুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবে। এতে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মামলার পটভূমি

২০১৩ সালে অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরির শর্ত নির্ধারণে একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। এর আগে জাতীয়করণের জন্য ২৬ হাজারের বেশি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচন করে সরকার সেগুলো পর্যায়ক্রমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনে।

পরে ২০১৭ সালে ওই বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত একটি বিধান চ্যালেঞ্জ করে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৯ সালে হাইকোর্ট ওই বিধানের একটি অংশকে সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘোষণা করেন।

হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের অনুমতি চাইলে ২০২২ সালে আপিল বিভাগ আবেদন গ্রহণ করেন এবং হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিক আপিল দায়ের করে। একই বিষয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও পৃথক আবেদন করা হয়।

সব পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল গ্রহণ করে চূড়ান্ত রায় দেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ আবারও উন্মুক্ত হলো।