বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শুরুতেই এক মহা বিপর্যয়ের মুখে পড়ল জার্মানি। দ্বিতীয় রাউন্ডের হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আর জার্মানদের এই আকস্মিক বিদায়ে দূর আকাশে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে হেক্সা মিশনের খোঁজে থাকা ব্রাজিল। কারণ, এই হারের ফলে অন্তত আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত ‘পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার একক গৌরব ও তকমাটা নিজেদের শোকেসেই ধরে রাখছেন ভিনিসিয়ুস-নেইমাররা।
ইতিহাসের খেরোখাতা বলছে, ২০০২ সালে পঞ্চমবারের মতো সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর থেকেই বিশ্ব ফুটবলের একক সিংহাসনটা ব্রাজিলের দখলে। চলমান বিশ্বকাপে সেলেসাওদের সেই রাজত্বে হানা দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ ছিল একমাত্র জার্মানির সামনে।
- জার্মানির পূর্ববর্তী শিরোপা: ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪।
- অনন্য কীর্তির সুযোগ: এবার ট্রফি ছুঁতে পারলে জার্মানি ভাগ বসাত ব্রাজিলের পাঁচ বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডে।
তবে মাঠের লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণব্যূহ ভাঙতে না পারায় এবং শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটের ভাগ্য পরীক্ষায় পরাস্ত হওয়ায় থমকে গেছে ডাই মানশাফটদের সেই স্বপ্ন। ফলে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রাখা ব্রাজিলের এই একক শ্রেষ্ঠত্বে অন্তত আগামী চার বছর কেউ ভাগ বসাতে পারছে না তা নিশ্চিত হয়ে গেল। অন্যদিক, মাঠের ফুটবলে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে জাপানকে হারিয়ে ইতিমধ্যেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। সেলেসাওদের লক্ষ্য এখন পাঁচ তারকার জার্সিতে ষষ্ঠ তারা (হেক্সা) যোগ করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে ব্যবধানটা আরো বাড়িয়ে নেওয়া।
“ইতালি এবার মূল পর্বের টিকিটই কাটতে পারেনি, আর জার্মানি বিদায় নিল শেষ ষোলো থেকে। ফলে ফুটবলবিশ্বের ‘একক সম্রাট’ হিসেবে ব্রাজিলের মুকুট আপাতত অক্ষুণ্ণই থাকছে।”
প্যারাগুয়ের কাছে জার্মানির এই হার কেবল ডাই মানশাফটদেরই কাঁদাল না, বরং লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের মিশনকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে আরও একধাপ এগিয়ে দিল।
Reporter Name 











