বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ভূমিকম্পের প্রবণতা। গত দেড় বছরে দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৫২টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ৩৯টি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলই ছিল দেশের অভ্যন্তরে। রিখটার স্কেলে এগুলোর মাত্রা ছিল ২.৫ থেকে ৫.৭। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনঘন এই মৃদু ও মাঝারি ঝাঁকুনি আসলে বড় কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস, যা রাজধানী ঢাকাকে এক ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (CDMP) এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় যদি ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, তবে মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়বে প্রায় ৭২ হাজার ভবন। শুধু ভবন ধস নয়, ভূমিকম্পের সঙ্গে সঙ্গে মাটির নিচের গ্যাস লাইন ফেটে গিয়ে পুরো রাজধানী অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হতে পারে, যা তৈরি করবে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি।
আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানান, ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে বছরে গড়ে ১০টির কম ভূমিকম্প হতো। কিন্তু গত দুই-তিন বছরে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত দেড় বছরে সবচেয়ে বেশি ৮টি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে সিলেটে। এছাড়া নরসিংদীতে ৫টি এবং রংপুরে ৪টি ভূমিকম্প উৎপন্ন হয়েছে। বাকিগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত, ভুটান ও মিয়ানমারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, গত প্রায় ১৫০ বছর ধরে এই অঞ্চলে বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্প না হওয়ায় মাটির নিচে বিপুল শক্তি জমা হয়ে আছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানান, ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে বছরে গড়ে ১০টির কম ভূমিকম্প হতো। কিন্তু গত দুই-তিন বছরে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত দেড় বছরে সবচেয়ে বেশি ৮টি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে সিলেটে। এছাড়া নরসিংদীতে ৫টি এবং রংপুরে ৪টি ভূমিকম্প উৎপন্ন হয়েছে। বাকিগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত, ভুটান ও মিয়ানমারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, গত প্রায় ১৫০ বছর ধরে এই অঞ্চলে বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্প না হওয়ায় মাটির নিচে বিপুল শক্তি জমা হয়ে আছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে। ঝুঁকি এড়াতে তিনি জরুরি ভিত্তিতে ৩টি পরামর্শ দিয়েছেন:
স্বয়ংক্রিয় গ্যাস ভাল্ব: গ্যাস লাইনে এমন প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে হবে যেন ভূমিকম্পের সাথে সাথে গ্যাস সরবরাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে বাতাসে উড়ে যায়। অন্যথায় সেকেন্ডারি ডিজাস্টার বা অগ্নিকাণ্ড আরও বড় রূপ নেবে।
মাটি উন্নয়ন ও সহনশীলতা: নরম মাটির উন্নয়ন ঘটিয়ে ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে।
ভবন রেট্রোফিটিং: বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর কাঠামোগত সক্ষমতা পরীক্ষা করে সেগুলোকে মজবুত (Retrofitting) করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “বড় ধরনের ভূমিকম্পে হাজার হাজার ভবন ধসে পড়লে শুধু সরকারি জনবল দিয়ে উদ্ধারকাজ বা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না।” এই জন্য তিনি প্রতিটি এলাকায় আগেভাগেই প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি করার তাগিদ দেন।
যেহেতু ভূমিকম্পের আগাম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়, তাই একমাত্র সঠিক পূর্বপ্রস্তুতি, বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে মেনে চলা এবং পরবর্তী উদ্ধারকাজের ব্যবস্থাপনাই পারে এই সম্ভাব্য মহাশ্মশান থেকে ঢাকাকে রক্ষা করতে।
Choiti Saha 












