ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বড় অঙ্কে কমেছে। এবার প্রতি কেজি এলপিজিতে দাম কমেছে ২৯ টাকা ৭৬ পয়সা। এর ফলে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় কমেছে ৩৫৭ টাকা। নতুন সমন্বয়কৃত মূল্য অনুযায়ী, এখন থেকে ১২ কেজির সিলিন্ডার মিলবে ১ হাজার ৫২৮ টাকায়।
আজ বৃহস্পতিবার নতুন এই দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন নির্ধারিত এই দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হবে। বিইআরসি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামার পর থেকেই বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম কমতে শুরু করায় দেশীয় বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা, যা গত মাসে ছিল ১৫৭ টাকা ০৬ পয়সা। এই কেজিভিত্তিক দরের ওপর ভিত্তি করেই অন্যান্য আকারের (যেমন- সাড়ে ৫, ১৫, ৩০ ও ৪৫ কেজি) সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে। বেসরকারি খাতের এলপিজির দাম কমলেও সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম আগের মতোই ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। প্রতি লিটার অটো গ্যাসের দাম ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে কমিয়ে এখন ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে দেশে এলপিজির দাম নিয়মিত নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। সাধারণত এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আরামকো, যা ‘সৌদি কার্গো মূল্য’ বা সৌদি সিপি (Saudi CP) নামে পরিচিত। এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে এবং আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর ডলারের গড় রেট হিসাব করে প্রতি মাসে বাংলাদেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। বিইআরসি প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। গৃহস্থালির কাজে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারটি কিনতে খুচরা বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা গুণতে হয় বলে সাধারণ ভোক্তারা প্রায়ই অভিযোগ করেন। নতুন এই বড় ছাড়ের সুফল সাধারণ মানুষ পুরোপুরি পাবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
Choiti Saha 












