সাভারের আশুলিয়ায় ব্রাজিল-জাপান ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের বিরোধের জেরে নাহিদ হাসান (১৫) নামে এক কিশোরকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। শুধু হত্যাই নয়, অপরাধ ঢাকতে নিহতের মরদেহ আশুলিয়ার একটি বালুচরে বালুচাপা দিয়ে গুম করার চেষ্টা চালায় ঘাতকেরা। এই বর্বরোচিত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিহতের পরিবার। নিহত নাহিদ হাসান লালমনিরহাটের বড়বাড়ী-পঞ্চগ্রাম এলাকার মোস্তাকের ছেলে। সে বাবার সঙ্গে আশুলিয়ার সাধুপাড়ায় বেড়াতে এসে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ব্রাজিল-জাপান ফুটবল খেলা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আর্জেন্টিনা সমর্থক নাহিদকে কৌশলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় ব্রাজিল সমর্থক হামজা, রাকিব, মেহেদী ও সিয়াম। এরপর তারা নাহিদকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে এবং মরদেহ গুম করার উদ্দেশে সাধুপাড়া এলাকার গরুর হাটের বালুচরে বালুর নিচে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। গতকাল বুধবার (১ জুলাই, ২০২৬) রাতে অভিযুক্ত হামজাকে খুঁজে বের করে আশুলিয়া থানায় হাজির করেন নিহতের ক্ষুব্ধ স্বজনরা। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হামজা তার অপরাধ স্বীকার করে এবং মরদেহ লুকিয়ে রাখার স্থানটি দেখায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১২টার দিকে আশুলিয়ার সাধুপাড়া এলাকার বালুচর খুঁড়ে নিহত নাহিদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ছেলের এমন নির্মম পরিণতিতে ভেঙে পড়েছেন বাবা মোস্তাক। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তি চাই।” এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, “ব্রাজিল-জাপান ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের মধ্যে বিরোধের জেরে এক আর্জেন্টিনা সমর্থককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ব্রাজিল সমর্থকরা। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।”
তিনি আরও জানান, মূল অভিযুক্ত হামজার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
Choiti Saha 












