ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি নিয়ে অবশেষে কাটল বড় জটিলতা। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সাম্প্রতিক এক সমঝোতার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এই ইতিবাচক পরিস্থিতির মাঝেই বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারকে চাঙা করতে তেল উৎপাদনের কোটা বা সীমা পুনরায় বাড়ানোর বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ‘ওপেক প্লাস’ (OPEC+)।
রবিবার (৫ জুলাই) সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমানের মতো শীর্ষ ওপেক সদস্য দেশগুলোর জ্বালানি মন্ত্রীরা এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী আগস্ট মাস থেকে দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত তেল উৎপাদনের বিষয়ে তারা চূড়ান্ত একমত হয়েছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকের মতো ওপেক প্লাসের মূল দেশগুলোর তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছিল।
ওপেকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওপেক প্লাসের দৈনিক তেল উৎপাদন যেখানে ছিল ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেলে, মে মাসে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ৩ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে। এর আগে জুন ও জুলাই মাসে কাগজের কলমে উৎপাদন কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে সম্প্রতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার বরফ গলতে শুরু করায় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য ওপেক প্লাস দেশগুলোকে বেশি তেল রপ্তানিতে সহায়তা করার মার্কিন প্রচেষ্টার ফলে জুন মাস থেকে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। যদিও বর্তমান উৎপাদন এখনো যুদ্ধপূর্ববর্তী স্বাভাবিক পর্যায়ের চেয়ে বেশ নিচে রয়েছে, তবুও নতুন এই সমঝোতা বৈশ্বিক বাজারে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। রবিবারের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগেই ওপেক প্লাসের মূল সাতটি সদস্য দেশ দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল কোটা বাড়ানোর ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। আগস্ট মাস থেকে এই বর্ধিত কোটা কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা আমদানিকারক দেশগুলো বড় ধরনের সুবিধা পাবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
Choiti Saha 












