Dhaka 4:12 pm, Wednesday, 4 November 2026
News Title :
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর যুবদল নেতা বহিষ্কার ফ্রান্সকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন বিএনপি ও জামায়াত একদল, দাবি জি এম কাদেরের আ. লীগের বিচার শুরু, সীমান্তে ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে: মাহদী আমিন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয় চান ট্রাম্পের প্রতিনিধি ইতিহাসের সবচেয়ে দামী সেমিফাইনাল আজ সেমিফাইনালে উঠেছে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল। সম্ভাব্য চার দ্বৈরথ ঘিরে ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনা
আগস্ট থেকে তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস | স্বস্তি ফিরছে জ্বালানির বাজারে

স্বস্তি ফিরছে তেলের বাজারে: আগস্ট থেকে উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস

  • Choiti Saha
  • Update Time : 10:01:37 pm, Sunday, 5 July 2026
  • 51 Time View

ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি নিয়ে অবশেষে কাটল বড় জটিলতা। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সাম্প্রতিক এক সমঝোতার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এই ইতিবাচক পরিস্থিতির মাঝেই বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারকে চাঙা করতে তেল উৎপাদনের কোটা বা সীমা পুনরায় বাড়ানোর বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ‘ওপেক প্লাস’ (OPEC+)।

রবিবার (৫ জুলাই) সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমানের মতো শীর্ষ ওপেক সদস্য দেশগুলোর জ্বালানি মন্ত্রীরা এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী আগস্ট মাস থেকে দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত তেল উৎপাদনের বিষয়ে তারা চূড়ান্ত একমত হয়েছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকের মতো ওপেক প্লাসের মূল দেশগুলোর তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছিল।

ওপেকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওপেক প্লাসের দৈনিক তেল উৎপাদন যেখানে ছিল ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেলে, মে মাসে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ৩ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে। এর আগে জুন ও জুলাই মাসে কাগজের কলমে উৎপাদন কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে সম্প্রতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার বরফ গলতে শুরু করায় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য ওপেক প্লাস দেশগুলোকে বেশি তেল রপ্তানিতে সহায়তা করার মার্কিন প্রচেষ্টার ফলে জুন মাস থেকে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। যদিও বর্তমান উৎপাদন এখনো যুদ্ধপূর্ববর্তী স্বাভাবিক পর্যায়ের চেয়ে বেশ নিচে রয়েছে, তবুও নতুন এই সমঝোতা বৈশ্বিক বাজারে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। রবিবারের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগেই ওপেক প্লাসের মূল সাতটি সদস্য দেশ দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল কোটা বাড়ানোর ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। আগস্ট মাস থেকে এই বর্ধিত কোটা কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা আমদানিকারক দেশগুলো বড় ধরনের সুবিধা পাবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আগস্ট থেকে তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস | স্বস্তি ফিরছে জ্বালানির বাজারে

স্বস্তি ফিরছে তেলের বাজারে: আগস্ট থেকে উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস

Update Time : 10:01:37 pm, Sunday, 5 July 2026

ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি নিয়ে অবশেষে কাটল বড় জটিলতা। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সাম্প্রতিক এক সমঝোতার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এই ইতিবাচক পরিস্থিতির মাঝেই বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারকে চাঙা করতে তেল উৎপাদনের কোটা বা সীমা পুনরায় বাড়ানোর বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ‘ওপেক প্লাস’ (OPEC+)।

রবিবার (৫ জুলাই) সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমানের মতো শীর্ষ ওপেক সদস্য দেশগুলোর জ্বালানি মন্ত্রীরা এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী আগস্ট মাস থেকে দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত তেল উৎপাদনের বিষয়ে তারা চূড়ান্ত একমত হয়েছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকের মতো ওপেক প্লাসের মূল দেশগুলোর তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছিল।

ওপেকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওপেক প্লাসের দৈনিক তেল উৎপাদন যেখানে ছিল ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেলে, মে মাসে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ৩ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে। এর আগে জুন ও জুলাই মাসে কাগজের কলমে উৎপাদন কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে সম্প্রতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার বরফ গলতে শুরু করায় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য ওপেক প্লাস দেশগুলোকে বেশি তেল রপ্তানিতে সহায়তা করার মার্কিন প্রচেষ্টার ফলে জুন মাস থেকে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। যদিও বর্তমান উৎপাদন এখনো যুদ্ধপূর্ববর্তী স্বাভাবিক পর্যায়ের চেয়ে বেশ নিচে রয়েছে, তবুও নতুন এই সমঝোতা বৈশ্বিক বাজারে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। রবিবারের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগেই ওপেক প্লাসের মূল সাতটি সদস্য দেশ দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল কোটা বাড়ানোর ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। আগস্ট মাস থেকে এই বর্ধিত কোটা কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা আমদানিকারক দেশগুলো বড় ধরনের সুবিধা পাবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।