সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, আইনি জটিলতা এবং অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে চলতি বছরের মধ্যেই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নির্বাসিত জীবনের নীরবতা ভেঙে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন, মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ক্ষমতা বা উচ্চাকাঙ্ক্ষার অংশ নয়। বরং বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই তিনি ফিরছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার মোহে রাজনীতি করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার যে সংগ্রাম, তা অসমাপ্ত রেখে আমি দমে যেতে পারি না।”
মৃত্যুভয়কে বহু আগেই জয় করেছেন দাবি করে আওয়ামী লীগ সভাপতি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের নির্মম ট্র্যাজেডি এবং ২০০৪ সালের ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো প্রাণঘাতী অধ্যায় পার করে তিনি বেঁচে আছেন। প্রতিবারই জীবন বাজি রেখে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এবারও সব প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে মানুষের মাঝে ফিরে আসবেন।
আওয়ামী লীগের ওপর বর্তমান রাজনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো ভঙ্গুর বা কাগুজে সংগঠন নয়। ৭৭ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এই দল বাংলার মাটি, মানুষের ইতিহাস এবং জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে মিশে গেছে। দলটিকে অতীতেও বারবার ভাঙার ও ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে স্বমহিমায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
একটি বিশেষ মহলের সমালোচনা করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু দেশবিরোধী শক্তি গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের মানুষের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়েছে। তবে রাষ্ট্রক্ষমতা বদলালেও মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগের নাম মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি।
দলের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি ও হাজার হাজার মামলার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো নির্দিষ্ট সরকারের অনুকম্পা বা দয়ার ওপর নির্ভর করে না। বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলটির সমর্থনে রাজপথে নামছেন, যা আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের স্পষ্ট বার্তা।
৫ই আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূল ভিত্তি—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর চরম আঘাত হানা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস করা, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ করা এবং সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর চলমান হামলাগুলো বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পিত অপচেষ্টারই অংশ।
Reporter Name 













