Dhaka 4:13 pm, Wednesday, 4 November 2026
News Title :
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর যুবদল নেতা বহিষ্কার ফ্রান্সকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন বিএনপি ও জামায়াত একদল, দাবি জি এম কাদেরের আ. লীগের বিচার শুরু, সীমান্তে ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে: মাহদী আমিন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয় চান ট্রাম্পের প্রতিনিধি ইতিহাসের সবচেয়ে দামী সেমিফাইনাল আজ সেমিফাইনালে উঠেছে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল। সম্ভাব্য চার দ্বৈরথ ঘিরে ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনা

এবার ভারতের হাত কেটে দেওয়ার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:10:51 am, Tuesday, 30 June 2026
  • 54 Time View

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের বিষয়ে দিল্লির এক ঘোষণার পরপরই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন তীব্র ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইসলামাবাদের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল ঘোষণা দেন যে, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারত তার অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করবে। এই ঘোষণার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ইসলামাবাদ।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ তোলেন, “প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।”

মুসাদিক মালিক পাকিস্তানের জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাব উল্লেখ করে বলেন: পাকিস্তানের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পানির প্রবাহ বন্ধ হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের এই অর্থনৈতিক ও খাদ্য নিরাপত্তা অন্য কারও নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া হবে না। পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং যেকোনো মূল্যে পাকিস্তান নিজের স্বার্থ রক্ষা করবে।

“আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না। অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে।” — মুসাদিক মালিক, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী, পাকিস্তান

বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, ১৯৬০ সালের সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও পুরোপুরি বহাল রয়েছে। কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে— সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এবার ভারতের হাত কেটে দেওয়ার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

Update Time : 09:10:51 am, Tuesday, 30 June 2026

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের বিষয়ে দিল্লির এক ঘোষণার পরপরই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন তীব্র ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইসলামাবাদের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল ঘোষণা দেন যে, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারত তার অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করবে। এই ঘোষণার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ইসলামাবাদ।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ তোলেন, “প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।”

মুসাদিক মালিক পাকিস্তানের জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাব উল্লেখ করে বলেন: পাকিস্তানের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পানির প্রবাহ বন্ধ হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের এই অর্থনৈতিক ও খাদ্য নিরাপত্তা অন্য কারও নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া হবে না। পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং যেকোনো মূল্যে পাকিস্তান নিজের স্বার্থ রক্ষা করবে।

“আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না। অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে।” — মুসাদিক মালিক, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী, পাকিস্তান

বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, ১৯৬০ সালের সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও পুরোপুরি বহাল রয়েছে। কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে— সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।